ঢালিউডের নন্দিত অভিনেতা মিশা সওদাগর। বাংলা চলচ্চিত্রের শীর্ষ খলনায়ক তিনি। বিদায়ী বছরে তার একাধিক সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া মালিক ও তছনছ নামে নতুন দুটি সিনেমায় অভিনয় করছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বাইরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসেবেও একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন নন্দিত এই অভিনেতা।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে ঢাকাই সিনেমার নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেন মিশা সওদাগর।

খুব কম কাজ করেছি। কাজ কোথায় বলুন? সেই অর্থে কাজইতো নেই। আগের চেয়ে কাজ কমে গেছে। এখনো সিনেমা মুক্তি উৎসবকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। কিন্তু, এভাবে কী শিল্প টিকবে? একটা সময় শত শত প্রেক্ষাগৃহ ছিল। প্রতি সপ্তাহে একাধিক সিনেমা মুক্তি পেত, আবেগ ও উৎসাহ নিয়ে দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে যেতেন। এখন আগের মতো প্রেক্ষাগৃহ নেই। আগের মতো সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে না। বছরের বড় দুটো উৎসবে সিনেমা  মুক্তি দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। প্রতিদিনের বাজার লাগবে। জীবন চালাতে যেমন তিন বেলা খাবার প্রয়োজন, একইভাবে সিনেমা শিল্প বাঁচাতে নিয়মিত সিনেমা দরকার।

সেজন্যই বলছি, কাজ কমে গেছে। যতটুকু কাজ হচ্ছে খুবই কম। আপনি দেখুন, সেই সিনেমাপাড়া নেই, প্রেক্ষাগৃহ নেই, কিছুইতো নেই। একসময় কাকরাইলে অনেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সরব ছিল, গুলিস্তান সরব ছিল, ঢাকা শহরের অনেক জায়গায় প্রযোজকদের অফিস ছিল। আর এখন? সেসব প্রতিষ্ঠান নেই। প্রযোজক কমে গেছে। আমাদেরও কাজ কমে গেছে।

সেই অর্থে সবই কমে গেছে। সবখানেই সংকট আছে। শাকিব খান ছাড়া আর কতজন নায়ক আছে, যার নামে সিনেমা চলবে? কতজন প্রযোজক আছে? কতজন নায়িকা আছে? যাদের নামে সিনেমা চলবে। বছরে অল্প কয়েকটি সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। এতে সংকট কাটবে না। আমাদের প্রেক্ষাগৃহ দরকার বেশি বেশি। প্রযোজক দরকার বেশি বেশি। নায়ক, নায়িকা দরকার আরও বেশি, ভালো ভালো গল্প দরকার। নিয়মিত সিনেমা মুক্তি দরকার। অনেক সিনেমা যেমন দরকার, অনেক প্রেক্ষাগৃহও দরকার।

এটা আপনারা বলবেন কেন কাজ কমে গেছে, আমি তো শিল্পী। আপনারা অনুসন্ধান করে বের করুন, কেন কাজ কমে গেছে? একটা বরবাদ দিয়ে তো হবে না। অনেক বরবাদ লাগবে। একটা ইনসাফ দিয়ে হবে না, অনেক ইনসাফ দরকার। যদি শত শত প্রেক্ষাগৃহ থাকত, অনেক বেশি প্রযোজক থাকত, তাহলে কাজও বেশি হতো।

অবশ্যই ছিলেন। একজন নায়ক রাজ রাজ্জাক ছিলেন। তার নামেই সিনেমা চলেছে। গল্পও ভালো ছিল। একজন নায়ক আলমগীর, একজন সোহেল রানা কত শত সিনেমা করেছেন। একজন নায়ক ফারুক  ছিলেন। একজন নায়ক ওয়াসিম ছিলেন। আরও অনেকেই ছিলেন। তাদের নামেই সিনেমা চলেছে। গল্পও ভালো ছিল, পরিচালক ও প্রযোজকও ছিলেন অনেক। গুণী গুণী চিত্রনাট্যকার, সংগীত পরিচালক, গীতিকার ছিলেন।  একজন সালমান শাহ ছিলেন। তারা আজ নেই। বড় বড় বাজেটের সিনেমা হতো। বছরের বড় দুটো উৎসবে কিংবা বছরে দুই মাসে নয়, ১২ মাসে সিনেমা মুক্তি দিতে হবে। দর্শক টানার জন্য গল্প লাগবে, তাছাড়া হবে না।

অভিনয় ক্যারিয়ারে অনেক সিনেমা করেছি। অনেকরকম চরিত্র করেছি। সবসময় ভালোবাসা দিয়ে কাজটুকু করেছি। যখন যে কাজটি করি তার মধ্যেই থাকি। বরবাদ সিনেমার জন্য অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এমন আরও অনেক কাজ আছে, যার জন্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি।