জ্যামাইকার কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী জিমি ক্লিফ ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন। সোমবার তার স্ত্রী লতিফা চেম্বার্স ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়।

লতিফা চেম্বার্স জানান, খিঁচুনির পর নিউমোনিয়ায় তার মৃত্যু হয়।

১৯৪৪ সালের ৩০ জুলাই জ্যামাইকার সেন্ট জেমসে জন্ম নেওয়া জিমি ক্লিফের আসল নাম ছিল জেমস চেম্বার্স। ১৯৫০ দশকে তিনি পরিবারের খামারবাড়ি ছেড়ে বাবার সঙ্গে রাজধানী কিংস্টনে চলে যান।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান তার লেখা গান 'হারিকেন হ্যাটি' দিয়ে। এরপর তিনি ৩০টিরও বেশি অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং প্যারিস, ব্রাজিলসহ বিশ্বের বহু দেশে শো করেন। ১৯৬৪ সালে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারে পারফর্ম করেন। পরের বছর আইল্যান্ড রেকর্ডসের প্রযোজক ক্রিস ব্ল্যাকওয়েল তাকে যুক্তরাজ্যে কাজের আমন্ত্রণ জানান।

পরে জিমি ক্লিফ অভিনয়েও নাম লেখান। তিনি অভিনয় করেন ১৯৭২ সালের বিখ্যাত চলচ্চিত্র 'দ্য হার্ডার দে কাম' সিনেমাতে। পেরি হেনজেল পরিচালিত এই সিনেমাটি রেগে সংগীতকে বিশ্ব দর্শকের সামনে নতুন রূপে তুলে ধরে।

বব ডিলান একবার বলেছিলেন, জিমি ক্লিফের 'ভিয়েতনাম' হলো এখন পর্যন্ত লেখা সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিবাদী গান।

জিমি ক্লিফ তার ক্যারিয়ারে দ্য রোলিং স্টোনস, এলভিস কস্টেলো, অ্যানি লেনক্স ও পল সাইমনের সঙ্গে কাজ করেছেন।

২০১২ সালে তার অ্যালবাম 'রেবার্থ' গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জেতে। এর আগে ১৯৮৪ সালে 'ক্লিফ হ্যাঙ্গার' এর জন্যও গ্র্যামি জিতেছিলেন।

জ্যামাইকার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান অর্ডার অব মেরিট পান তিনি। ২০১০ সালে তাকে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।