ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত আছেন কয়েক দশক ধরে। হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করে পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি ও ভালোবাসা। অনেকগুলো চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মঞ্চনাটকে নির্দেশনা দিলেও নিজ দল ঢাকা থিয়েটারের হয়ে এবারই প্রথম নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন ফারুক আহমেদ। সম্প্রতি প্রদর্শিত হয়েছে তার নির্দেশিত নাটক 'রঙমহাল'।

ঢাকা থিয়েটারের জন্য নাটক নির্দেশনা, মঞ্চের সাড়াসহ নানা বিষয় নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেতা ও নির্দেশক।

দ্য ডেইলি স্টার: প্রথমবার ঢাকা থিয়েটারের জন্য নাটক নির্দেশনা দিয়ে কেমন সাড়া পেলেন?
ফারুক আহমেদ:  নিরানব্বই ভাগ সাড়া পেয়েছি। গত ১৮ ডিসেম্বর ছিল 'রঙমহাল' নাটকের প্রথম শো। শুরুতে মিলনায়তন পাওয়া নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছিল। ভেবেছিলাম দর্শক হবে কি না, কারণ এখন তো মঞ্চের দর্শক কিছুটা কমে গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর্শকদের দারুণ সাড়া পেয়েছি। সন্ধ্যা ৭টায় নাটক শুরু হয়েছিল। পরে এসে অনেকে ফিরেও গেছেন।

দ্য ডেইলি স্টার: আপনার আত্মবিশ্বাস কেমন ছিল?
ফারুক আহমেদ: আত্মবিশ্বাস ছিল প্রচণ্ড। দর্শকদের প্রতি আমার এই বিশ্বাস সব সময়ই ছিল এবং সামনেও থাকবে। 'রঙমহাল' নিয়েও তাই ছিল। ঢাকা থিয়েটারের বড় বড় প্রযোজনা—যেমন 'কিত্তনখোলা', 'বনপাংশুল', 'শকুন্তলা', 'কেরামত মঙ্গল'সহ অনেক নাটকে অভিনয় করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মনে হয়েছে 'রঙমহাল' ভালো হবে। নাটকটি লিখেছেন রুবাইয়াৎ আহমেদ। এতে অনেক নতুন মুখ অভিনয় করেছেন। ২০ জন অভিনয়শিল্পীর মধ্যে ১০ জনই নতুন। কিন্তু তারা ভালো অভিনয় করেছেন, চেষ্টা করেছেন নিজেদের সেরাটা দেওয়ার।

দ্য ডেইলি স্টার: আপনার স্ত্রীও কি এই নাটকে অভিনয় করেছেন?
ফারুক আহমেদ: হ্যা, আমার স্ত্রী নাসরিন নাহার 'রঙমহাল'-এ অসম্ভব ভালো অভিনয় করেছেন। শো শেষে অনেকেই বলেছেন, 'ভাবি না থাকলে নাটকটা জমত না।' সবার এই প্রশংসা খুব ভালো লেগেছে। নাটকটি মূলত দুজন অন্ধ স্বামী-স্ত্রীর গল্প, যারা ভিক্ষা করেন। তাদের দুজনের মধ্যে স্ত্রীর চরিত্রটি করেছেন নাসরিন।

দ্য ডেইলি স্টার: পরিচালক হিসেবে নিজেকে ১০০–তে কত দেবেন?
ফারুক আহমেদ: প্রথমেই বলে নিই, নাটকটি পরিচালনা করতে গিয়ে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু ভাই অনেক সহযোগিতা করেছেন। শিমুল ইউসুফও পাশে ছিলেন। আফজাল হোসেন ভাই একাধিকবার মহড়া দেখতে এসেছেন। তিনি সহযোগিতাও করেছেন। শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সেলিমসহ আরও অনেকেই সাহায্য করেছেন। এককথায় ঢাকা থিয়েটারের সবাই পূর্ণ সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছেন। এবার আসি নম্বরের কথায়—পরিচালক হিসেবে নিজেকে ১০০–তে ৮৫ দেব। আমজনতা যেন বোঝে, সেভাবেই নাটকটি করেছি। সবশেষে বলতে চাই, আমি আমজনতার অভিনেতা, পরিচালকও হতে চাই আমজনতার।

দ্য ডেইলি স্টার: সেলিম আল দীনকে নিয়ে কিছু স্মৃতিচারণা করবেন?
ফারুক আহমেদ: সেলিম আল দীন স্যারকে নিয়ে অনেক স্মৃতি আছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি মীর মশাররফ হোসেন হলের নাট্য সম্পাদক ছিলাম। সেই সময় আন্তবিশ্ববিদ্যালয় হল নাট্য প্রতিযোগিতায় আমার নির্দেশিত নাটক প্রদর্শিত হয়েছে। তখন থেকেই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। 'চোর', 'বাসন', 'বর্ণচোর' নির্দেশনা দিয়েছি। সেলিম আল দীন স্যার আমাকে বলতেন, 'তুই ডিরেকশন দে।' এবার ঢাকা থিয়েটারের 'রঙমহাল' নির্দেশনা দিতে গিয়ে তার কথা খুব মনে পড়েছে।

দ্য ডেইলি স্টার: 'রঙমহাল' কী ধরনের নাটক?
ফারুক আহমেদ: সব সময় চেয়েছি মঞ্চের জন্য সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন একটি নাটক নির্দেশনা দেব। 'রঙমহাল' ঠিক তাই। এতে নাচ আছে, গান আছে, ভালো গল্প আছে। প্রথম মঞ্চায়নের দিন দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখেই বুঝেছি, তারা গ্রহণ করেছেন। আরেকটি আত্মবিশ্বাস ছিল—যারা অভিনয় করছেন, তাদের দিয়ে ভালো কাজ করাতে পারব। কারণ আমি তো অভিনয়েরই মানুষ।

দ্য ডেইলি স্টার: সামনে বইমেলা, নতুন কিছু লিখছেন?
ফারুক আহমেদ: নতুন একটি বই লিখছি। স্মৃতিকথামূলক। নাম দিয়েছি 'মুছে যাওয়া দিনগুলি'। গল্পের মতো করে লিখছি। সেখানে ১৯৭১ সালের একটি গল্প আছে। হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে নিয়ে একটি গল্প আছে—উনার মধ্যে যে সম্মোহনী শক্তি ছিল, তা নিয়ে। আমার দাদাজান ও নানাজানের গল্পও থাকবে।

দ্য ডেইলি স্টার: নাটক ও সিনেমা নিয়ে বর্তমান ব্যস্ততা?
ফারুক আহমেদ: ৯ জানুয়ারি নতুন একটি নাটকের শুটিং করব। এ ছাড়া চলতি মাসে নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করব। সিনেমার নাম 'বনলতা এক্সপ্রেস'। আরও একটি নতুন সিনেমার শুটিংয়ের কথা রয়েছে।