দক্ষিণ কোরিয়ার কে-পপ ইন্ডাস্ট্রি এখন স্পষ্টভাবেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে ঢুকে পড়েছে। ভার্চুয়াল আইডল, কণ্ঠ নকল করার প্রযুক্তি (ভয়েস ক্লোনিং) ও রোবট পারফর্মার—সবই এখন কে-পপের অংশ। তাই শিল্প সংশ্লিষ্টরা না চাইলেও এআই এখন কে-পপের প্রতিদিনের কাজের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিট আসার পর থেকে এআই খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অফিস, ব্যবসা, শিক্ষা সব জায়গার মতো সংগীত শিল্পেও এর প্রভাব পড়ে।
কে-পপও এর বাইরে থাকেনি।
তিন বছরের মধ্যে বড় বড় কে-পপ কোম্পানি গান তৈরি, শিল্পী গড়ে তোলা ও ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগে এআইয়ের ব্যবহার শুরু করেছে। বিশ্ব সংগীত যেহেতু দিন দিন এআই নির্ভর হয়ে যাচ্ছে, তাই কে-পপকেও একই পথে হাঁটতে হচ্ছে। কেউ কেউতো রোবট আইডল পর্যন্ত তৈরি করে ফেলেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এআই কীভাবে কে-পপে ঢুকল, আর সামনে কী হতে যাচ্ছে?
কে-পপের চার বড় কোম্পানি হাইব, এসএম, জেআইপি ও ওয়াইজি। এর মধ্যে এসএম এন্টারটেইনমেন্ট সবার আগে এআই নিয়ে ভবিষ্যতের কথা বলেছিল।
এসএমের প্রতিষ্ঠাতা লি সু-মান অনেক আগেই বলেছিলেন, একসময় বিনোদন জগৎ হবে রোবট ও ভার্চুয়াল চরিত্রের দুনিয়া।
সেই ভাবনার বাস্তব উদাহরণ হলো ২০২০ সালে আত্মপ্রকাশ করা গার্ল গ্রুপ এস্পা। এই গ্রুপের সঙ্গে ছিল এআই অ্যাভাটার, আর তাদের গল্পে ছিল এআই ও মেটাভার্সের ধারণা।
অন্যদিকে হাইব সরাসরি প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে দেয়। ২০২১ সাল থেকে হাইব এআই অডিও কোম্পানি সুপারটোনে বিনিয়োগ শুরু করে। ২০২৩ সালে তারা কোম্পানিটির বড় অংশ কিনে নেয়। ওই বছরই তারা দেখিয়েছিল এআই দিয়ে কী করা যায়। তারা লি হিউনের নতুন প্রজেক্ট মিডন্যাটের গান মানকুয়েরেডে এআই ব্যবহার করে।
এই গানে এআই ব্যবহার করে লি হিউনের কণ্ঠ ছয়টি ভাষায় গান গেয়েছিল, যথাক্রমে কোরিয়ান, ইংরেজি, জাপানি, চীনা, স্প্যানিশ ও ভিয়েতনামি। প্রত্যেকটি গানের উচ্চারণ ছিল প্রায় স্থানীয় মানুষের মতো। এমনকি এআই তার কণ্ঠ বদলে নারী কণ্ঠের অংশও গেয়েছে।
সুপারটোনের সিইও কিয়োগু লি বলেন, 'এআই শিল্পীদের জায়গা নেবে না। বরং শিল্পীদের নতুনভাবে ভাবতে ও কাজ করতে সাহায্য করবে।'
২০২৪ সালে হাইব আরেক ধাপ এগিয়ে সিন্ডি৮ নামে একটি ভার্চুয়াল পপ গ্রুপ তৈরি করে। এই গ্রুপের সব কণ্ঠই এআই দিয়ে বানানো। দলের চার সদস্য ক্যানারি, নেক্সট, গোয়ো ও রেভেন। তাদের বসবাস কল্পনার জগতে, যে জগতের নাম ন্যান্সি ল্যান্ড।
হাইবের চেয়ারম্যান ব্যাং সি-হিউক মনে করেন, ভবিষ্যতে শুধু মানব শিল্পী দিয়ে সব দর্শকের চাহিদা মেটানো কঠিন হবে। তাই তিনি হাইবকে কেবল বিনোদন কোম্পানি নয়, 'এন্টার-টেক' কোম্পানি হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
তিনি এআই ব্যবহারের নৈতিক দিক নিয়েও সমাজে আলোচনা দরকার বলে মনে করেন।
জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট একটু দেরিতে এআই ব্যবহার শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তারা একটি শাখার নাম বদলে ব্লু গ্যারেজ রাখে এবং এআই শিল্পী তৈরির ঘোষণা দেয়। তবে এখনো বড় কোনো ফল দেখা যায়নি।
অন্যদিক ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্ট আরও সতর্ক। তারা নিজেরা এআই বানানোর বদলে, সফল ভার্চুয়াল গ্রুপের সঙ্গে কাজ করছে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বর্তমানে জনপ্রিয় ভার্চুয়াল গ্রুপ প্লেভের গান ও কনটেন্ট নিয়ে কাজ করছে।
প্লেভ পুরোপুরি এআই নয়। এখানে মানুষ বিশেষ স্যুট পরে পারফর্ম করে। সেই নড়াচড়া লাইভ থ্রিডি চরিত্রে রূপ নেয়। এআই তাদের মুখের ভঙ্গি ও গতিকে আরও স্বাভাবিক করে তোলে। এই পদ্ধতি খুবই সফল হয়েছে।
কোরিয়া হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লেভ প্রথম ভার্চুয়াল গ্রুপ হিসেবে কোরিয়ার সংগীত শোতে শীর্ষ স্থান দখল করেছে। তাদের অ্যালবাম লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। তারা বড় বড় কনসার্ট হলও দর্শকে ভরিয়ে ফেলেছে।
প্লেভ যদি ভার্চুয়াল হয়, তবে গ্যালাক্সি কোঅপারেশন নিয়ে আসছে সত্যিকারের রোবট আইডল। এই রোবটগুলো শুধু স্ক্রিনে নয়—মঞ্চে নাচবে, ভক্তদের সামনে আসবে, ফ্যান ইভেন্টে অংশ নেবে।
'কামআপ ২০২৫' সম্মেলনে একটি হিউম্যানয়েড রোবট জি-ড্রাগনের গানের সঙ্গে নাচও করেছে।
পাঠকের মন্তব্য
আপনার মতামত দিন
সাম্প্রতিক মন্তব্য (১)
সাকিব আহমেদ
২ দিন আগেখুব গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন দেখা গেছে। ধন্যবাদ!